হোম / স্বাস্থ্য পরামর্শ

স্বাস্থ্য পরামর্শ

হাড়, জয়েন্ট ও দৈনন্দিন স্বাস্থ্য নিয়ে সহজ ভাষায় সচেতনতামূলক লেখা।

কোনো লেখা পাওয়া যায়নি — অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন।

শিশু · হাড়

শিশুদের হাড় ভাঙা সহজে ধরা পড়ে না

শিশুদের হাড় তুলনামূলকভাবে নরম ও নমনীয়। তাই পড়ে গিয়ে হাড় পুরোপুরি না ভেঙে কিছুটা বেঁকে বা ফেটে যেতে পারে (গ্রিনস্টিক ফ্র্যাকচার) — বাইরে থেকে বোঝা কঠিন। শিশু অনেক সময় ঠিকমতো ব্যথার কথা বলতেও পারে না।

পড়ে যাওয়ার পর এই লক্ষণগুলো খেয়াল করুন

  • হাড়ের জায়গা ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে যাওয়া
  • হাত বা পা নাড়াতে অস্বস্তি, ছুঁলে কান্না
  • খেলাধুলায় হঠাৎ অনাগ্রহ, এক হাত/পা কম ব্যবহার করা
  • খুঁড়িয়ে হাঁটা বা ভর দিতে না চাওয়া
সন্দেহ হলে দেরি না করে এক্স-রে করান। শিশুর হাড়ের বৃদ্ধি-অংশে (গ্রোথ প্লেট) আঘাত ঠিকমতো চিকিৎসা না হলে পরে হাড় বাঁকা বা ছোট হয়ে যেতে পারে।
সব টিপস
সাধারণ স্বাস্থ্য

হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে সবকিছু অন্ধকার?

বিছানা বা সোফা থেকে ঝট করে উঠে দাঁড়ানোর সময় মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা বা কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হলে হালকাভাবে নেবেন না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন।

কেন হয়?

দাঁড়ানোর মুহূর্তে রক্তচাপ দ্রুত মানিয়ে নিতে না পারলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কিছুক্ষণের জন্য কমে যায় — তাই কয়েক সেকেন্ড মাথা ঘোরে বা ব্ল্যাকআউট লাগে।

সম্ভাব্য কারণ

  • শরীরে পানির ঘাটতি (ডিহাইড্রেশন)
  • আয়রন বা ভিটামিন বি১২-এর অভাব
  • কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন প্রেশারের ওষুধ)
  • স্নায়ুতন্ত্রের দুর্বলতা (যেমন দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে)

কী করবেন

  • ঘুম থেকে উঠে সাথে সাথে দাঁড়াবেন না — আগে কিছুক্ষণ বসে থাকুন
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন
  • সুষম খাবার খান
  • বারবার হলে বা অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
সব টিপস
নার্ভ · সাধারণ

হাত-পায়ে ঝিনঝিন? অবহেলা নয়

অনেকক্ষণ এক ভঙ্গিতে বসে থাকলে সাময়িক ঝিনঝিন স্বাভাবিক। কিন্তু বারবার বা দীর্ঘদিন ধরে হলে এর পেছনে কোনো কারণ থাকতে পারে।

সাধারণ কারণ

  • ঘাড় বা কোমরের মেরুদণ্ডে নার্ভে চাপ
  • কব্জিতে নার্ভ চাপা পড়া (কার্পাল টানেল সিনড্রোম)
  • ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি
  • ডায়াবেটিস

কখন ডাক্তার দেখাবেন

  • ২ সপ্তাহের বেশি ঝিনঝিন বা অবশ ভাব
  • সাথে দুর্বলতা, জিনিস হাত থেকে পড়ে যাওয়া
  • ঘাড় বা কোমর ব্যথার সাথে হাতে/পায়ে ব্যথা নামা
হঠাৎ শরীরের এক পাশ অবশ, মুখ বেঁকে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে গেলে এটি স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে — দেরি না করে এখনই হাসপাতালে যান।
সব টিপস
মেরুদণ্ড

কোমর ব্যথা: ভুল অভ্যাসই বড় কারণ

বেশিরভাগ কোমর ব্যথা আসে মাংসপেশি বা লিগামেন্টের টান থেকে — ভুল ভঙ্গিতে বসা, ঝুঁকে ভারী জিনিস তোলা বা দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা এর বড় কারণ।

দৈনন্দিন নিয়ম

  • ভারী জিনিস তুলতে কোমর নয়, হাঁটু ভাঁজ করে বসে তুলুন
  • একটানা ৪০–৫০ মিনিটের বেশি না বসে মাঝে মাঝে হাঁটুন
  • খুব নরম ফোমের বদলে মাঝারি শক্ত বিছানায় ঘুমান
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত হাঁটা
পায়ে দুর্বলতা, প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, জ্বর বা অকারণে ওজন কমার সাথে কোমর ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।
সব টিপস
জয়েন্ট

৪০ পেরোলেই হাঁটু ব্যথা?

বয়সের সাথে হাঁটুর তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) ক্ষয় হতে থাকে — একে বলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস। সিঁড়ি ভাঙতে, নামাজে বসতে-উঠতে বা অনেকক্ষণ বসে থাকার পর উঠতে ব্যথা হয়।

ক্ষয় ধীর করতে যা করবেন

  • ওজন কমানো — প্রতি কেজি ওজন কমলে হাঁটুর উপর চাপ কয়েকগুণ কমে
  • উরুর মাংসপেশি শক্ত করার ব্যায়াম (চিকিৎসকের দেখানো নিয়মে)
  • দীর্ঘক্ষণ পা ভাঁজ করে বা পিঁড়িতে বসা এড়িয়ে চলা
  • প্রয়োজনে উঁচু কমোড ব্যবহার
নিজে নিজে দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ বা যেখানে-সেখানে ইনজেকশন নেবেন না — কিডনি ও পাকস্থলীর ক্ষতি হতে পারে।
সব টিপস
প্রাথমিক চিকিৎসা

হাড় ভাঙলে হাসপাতালে যাওয়ার আগে

যা করবেন

  • আক্রান্ত অংশ নাড়াচাড়া না করে স্থির রাখুন
  • কাঠ, স্কেল বা মোটা কাগজ দিয়ে আলতো করে বেঁধে (স্প্লিন্ট) রাখুন
  • কাপড়ে মোড়ানো বরফ ১০–১৫ মিনিট দিন
  • রক্তপাত হলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চেপে ধরুন
  • যত দ্রুত সম্ভব এক্স-রে ও চিকিৎসকের কাছে যান

যা কখনোই করবেন না

  • ভাঙা হাড় টেনে সোজা করার চেষ্টা
  • মালিশ, গরম তেল বা কবিরাজি বাঁধন — এতে হাড় ভুলভাবে জোড়া লাগতে পারে
  • হাড় চামড়া ভেদ করে বের হলে তা ভেতরে ঢোকানোর চেষ্টা
সব টিপস

এই লেখাগুলো সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসার বিকল্প নয়। আপনার সমস্যার জন্য চিকিৎসকের সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন। আরও লেখা পড়ুন ফেসবুক পেজে।