শিশুদের হাড় তুলনামূলকভাবে নরম ও নমনীয়। তাই পড়ে গিয়ে হাড় পুরোপুরি না ভেঙে কিছুটা বেঁকে বা ফেটে যেতে পারে (গ্রিনস্টিক ফ্র্যাকচার) — বাইরে থেকে বোঝা কঠিন। শিশু অনেক সময় ঠিকমতো ব্যথার কথা বলতেও পারে না।
পড়ে যাওয়ার পর এই লক্ষণগুলো খেয়াল করুন
হাড়ের জায়গা ফুলে যাওয়া বা লাল হয়ে যাওয়া
হাত বা পা নাড়াতে অস্বস্তি, ছুঁলে কান্না
খেলাধুলায় হঠাৎ অনাগ্রহ, এক হাত/পা কম ব্যবহার করা
খুঁড়িয়ে হাঁটা বা ভর দিতে না চাওয়া
সন্দেহ হলে দেরি না করে এক্স-রে করান। শিশুর হাড়ের বৃদ্ধি-অংশে (গ্রোথ প্লেট) আঘাত ঠিকমতো চিকিৎসা না হলে পরে হাড় বাঁকা বা ছোট হয়ে যেতে পারে।
বিছানা বা সোফা থেকে ঝট করে উঠে দাঁড়ানোর সময় মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা বা কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হলে হালকাভাবে নেবেন না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন।
কেন হয়?
দাঁড়ানোর মুহূর্তে রক্তচাপ দ্রুত মানিয়ে নিতে না পারলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কিছুক্ষণের জন্য কমে যায় — তাই কয়েক সেকেন্ড মাথা ঘোরে বা ব্ল্যাকআউট লাগে।
সম্ভাব্য কারণ
শরীরে পানির ঘাটতি (ডিহাইড্রেশন)
আয়রন বা ভিটামিন বি১২-এর অভাব
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন প্রেশারের ওষুধ)
বয়সের সাথে হাঁটুর তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) ক্ষয় হতে থাকে — একে বলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস। সিঁড়ি ভাঙতে, নামাজে বসতে-উঠতে বা অনেকক্ষণ বসে থাকার পর উঠতে ব্যথা হয়।
ক্ষয় ধীর করতে যা করবেন
ওজন কমানো — প্রতি কেজি ওজন কমলে হাঁটুর উপর চাপ কয়েকগুণ কমে
উরুর মাংসপেশি শক্ত করার ব্যায়াম (চিকিৎসকের দেখানো নিয়মে)
দীর্ঘক্ষণ পা ভাঁজ করে বা পিঁড়িতে বসা এড়িয়ে চলা
প্রয়োজনে উঁচু কমোড ব্যবহার
নিজে নিজে দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ বা যেখানে-সেখানে ইনজেকশন নেবেন না — কিডনি ও পাকস্থলীর ক্ষতি হতে পারে।
এই লেখাগুলো সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসার বিকল্প নয়। আপনার সমস্যার জন্য চিকিৎসকের সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন। আরও লেখা পড়ুন ফেসবুক পেজে।